♦♦মহাকাশের দিকে তাকালে আমাদের মনে হাজারো প্রশ্ন জাগে। যেমন এই তারাটি দেখতে কেমন বা কত বড়?।তবে এতো বড় স্বপ্নের মধ্যে আমাদের দৌড় ২৩ বিলিয়ন কিলোমিটার পর্যন্ত।পৃথিবীতে আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার সূচনা হয় সেই তিন শতাব্দী আগে। টেলিস্কোপ আবিষ্কার করে টেলিস্কোপ যুগের সূচনা করেছিলেন গ্যালিলিও গ্যালিলি। ফলে বিজ্ঞানীরা নতুনভাবে আকাশ দেখতে সক্ষম হলেন।এরপর নিউটন আবিষ্কার করলেন প্রতিফলক টেলিস্কোপ। তারপর বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকের প্রথম দিকে বিজ্ঞানীরা পরিচিত হলে রেডিও এস্ট্রোনমির সাথে।
♦কিন্তু সমস্যা ছিল যে পৃথিবীতে থাকা টেলিস্কোপ দিয়ে মহাকাশের দৃশ্য ভালোভাবে দেখা যেত না। আবার অনেক রশ্মি ছিল যে পৃথিবীতে আসার আগেই বায়ুমণ্ডলে শোষিত হয়ে যেত। তাই বিজ্ঞানীরা মহাকাশের বাইরে টেলিস্কোপ পাঠানোর প্রয়োজনবোধ করলেন। এরই ধারাবাহিকতায় মহাশূন্যে স্থাপিত হয়েছে হাবল, চন্দ্রা, স্পিটজার ইত্যাদির মতো যুগান্তকারী সব স্পেস টেলিস্কোপ।
♦স্পেস টেলিস্কোপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নজর কাড়ে হাবল স্পেস স্যাটেলাইট টেলিস্কোপ।১৯৯০ সালের এপ্রিলে পৃথিবী থেকে ৬০০ কি.মি উপরে লোয়ার আর্থ অরবিটে একে স্থাপন করা হয়। জ্যোতির্বিদ এডুইন হাবলের নামে এর নামকরণ করা হয়। হাবল মূলত ৯৪.৪৮ ইঞ্চি ব্যাসের একটি প্রতিফলন টেলিস্কোপ। আয়নাটির পুরুত্ব মাত্র ১০ ন্যানোমিটার! শুরুতে এর প্রতিফলক আয়নায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তাই উৎক্ষেপণের তিন বছরের মাথায় বিজ্ঞানীরা স্পেস শাটলে করে এর আয়নাটিকে মেরামত করে দেন। এরপর আর হাবলকে ঠেকায় কে?। মহাকাশের হাজার হাজার দুর্দান্ত ছবি তুলে চলেছে হাবল, যা মহাকাশ গবেষণায় বিপ্লব ঘটায়। আসলে একে মেরামত করতে করতে এর সব যন্ত্রপাতিই এখনকার আধুনিক যন্ত্রপাতি। তাই হাবল এখন সেই নব্বইয়ের দশকের হাবল নয়। হাবলের জন্য জ্যোতির্বিদ্যার যে কতো অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তা বলার মতো নয়। এর সাহায্যে প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৮ হাজার জার্নাল পেপার প্রকাশিত হয়েছে! বিশ্বের বয়স, গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ, সুপারনোভাদের দুরত্ব, ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্বের প্রমাণ ইত্যাদি হাজারো বিষয়ে সাহায্য করেছে হাবল। মহাকাশপ্রেমীদের সবচেয়ে প্রিয় টেলিস্কোপ হচ্ছে হাবল টেলিস্কোপ। আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞানে এর অভূতপূর্ব অবদান অনস্বীকার্য। আর এই হাবলের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আসছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ!
♦মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার ( NASA ) নেতৃত্বে প্রায় ৮৮০ কোটি ডলার ব্যয়ে স্পেস টেলিস্কোপ জেমস ওয়েব তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে।সম্ভবত ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ( ESA ) রকেট আরিয়ান-৫ এর সাহায্যে আগামী বছরেই মানে ২০২১ সালে উৎক্ষেপণ করা হবে স্পেস টেলিস্কোপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপটি। রকেটের পেলোড কম্পার্টমেন্টে টেলিস্কোপটি আয়নাগুলো গুটিয়ে রাখবে। প্রায় ১৮টি টুকরার সমন্বয়ে তৈরি স্যাটেলাইটটির প্রতিফলক আয়না তৈরি হয়েছে হয়েছে বেরিলিয়াম দিয়ে। কারণ বেরিলিয়াম প্রচলিত আয়নার চেয়ে ঠান্ডায় সংকুচিত হয় কম। আয়নাগুলো বসাবার স্থানটি ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে বাঁধানো থাকবে। কারণ সোনার ইনফ্রারেড রশ্মি প্রতিফলনের ক্ষমতা বেশি। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫,১৩,৪০০ কি.মি উপরে ল্যাগরেজ পয়েন্টে স্থাপিত হবে। অর্থাৎ চাঁদের চেয়েও প্রায় ৫ গুণ দুরত্বে! জেমস ওয়েবের মূল যন্ত্রপাতি ৪টি। হাবল এবং স্পিটজারের তুলনায় জেমস ওয়েব যথাক্রমে ৩ ও ৮ গুণ শক্তিশালী হবে। হাবলের সাহায্যে আমরা বিগ ব্যাংয়ের ৮০০ মিলিয়ন বছর পরের ছবি দেখতে পেরেছি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা প্রত্যাশা করছেন যে, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মাধ্যমে আমরা বিগ ব্যাংয়ের ২০০ মিলিয়ন বছর পরের ছবি দেখতে পাবো। ইনফ্রারেড-রে বা অবলোহিত রশ্মি ডিটেক্ট করে জেমস ওয়েব এক্সোপ্লানেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গবেষণায় সাহায্য করবে। এছাড়াও মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য, নক্ষত্র সৃষ্টির রহস্য, মহাবিশ্বের বয়সের মতো হাবল যেমন হাজারো তথ্য দিয়েছে, জেমস ওয়েব এর চেয়েও বেশি সাহায্য করবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন